ব্যাংকের সুদের হার ও বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের

হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কমিয়ে আনতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ও বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে আলু চাষীদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য হিমাগার শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, দেশে ২০২৪ সালে চাহিদার তুলনায় কম আলু উৎপাদন হওয়ায় আলুর বাজারমূল্য বেশি ছিল। গত বছর আলুর বাজারদর বেশি থাকায় এবছর সারাদেশে কৃষকগণ ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেছেন। যা গত ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। এরইমধ্যে নতুন আলু বাজারে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকেই হিমাগারসমূহে কৃষকদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ করা শুরু হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে হিমাগারের পরিচালনার জন্য গৃহীত ব্যাংক ঋণের সুদের হার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সঠিক সময়ে কিস্তি প্রদান করতে না পারলে জরিমানা ২ শতাংশসহ মোট ১৭ শতাংশে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎ বিল, লোডিং-আনলোডিং ও বস্তা পরিবর্তন (পাল্টানি) খরচ, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষিত স্টাফদের বর্ধিত বেতনভাতা, বোনাস, সম্মানী, হিমাগারের ইন্স্যুরেন্স, অ্যামোনিয়া গ্যাস, লুব্রিকেন্ট অয়েল খরচ, হিমাগারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও মেরামত খরচ, অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সকল খরচগুলো বিশ্লেষণ করে ২০২৫ সালে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে কেজি প্রতি ভাড়া দাঁড়ায় ৯ টাকা ৬২ পয়সা । এরসঙ্গে আরো অনেক খরচ আছে যা যোগ করলে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া দাঁড়াবে প্রায় ১২ টাকা। দেশের আলু চাষকারী কৃষক এবং হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ীগণের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের গত ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আর্থিক বিশ্লেষণে প্রাপ্ত কেজি প্রতি ভাড়া ৯.৬২ টাকার পরিবর্তে কেজি প্রতি ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, আলু চাষকারী কৃষকদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য যদি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কৃষকদের সহনীয় পর্যায়ে আনতে হয় তবে হিমাগার শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণা করে সরকারকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— বর্তমানে প্রচলিত দণ্ডসুদ সহ ব্যাংক ঋণের সুদ শতকরা ১৭ ভাগ থেকে কমিয়ে শতকরা ৭ ভাগ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিলের ইউনিট প্রতি রেট পিক আওয়ারে ১৩.৬২ টাকা ও অফপিক আওয়ারে ৯.৬২ টাকার স্থলে ৫ টাকা করতে হবে। ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে। উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) প্রত্যাহার করতে হবে। ত্রৈমাসিক ঋণের কিস্তির পরিবর্তে ঋণের কিস্তি বাসরিক করতে হবে।

আরও